Globe Securities Ltd. | Post Details
24 Oct

পতন ঠেকাতে পুঁজিবাজারে আজ থেকেই বড় ধরনের বিনিয়োগ

আগের দু`দিনের মতো গতকাল মঙ্গলবার শেয়ারবাজারে বড় পতন না হলেও বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমেছে। প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৩৯ শতাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ৪৫ শতাংশের কমেছে। দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে ২৭ শতাংশের দরবৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ৫৭ শতাংশের দর।

টানা দু`দিনের বড় দরপতনের পর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্সের পতন ঠেকাতে তৎপর ছিল রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিনিয়োগ সংস্থা আইসিবি। বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমলেও ডিএসইএক্স সূচক পৌনে ১ পয়েন্ট বেড়েছে। আর চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ২৬ পয়েন্ট হারিয়েছে। এদিকে, বিনিয়োগকারীরা এক ধরনের উদ্বেগ থেকে কেনাবেচা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে দুই বাজারের মোট লেনদেন ৪০০ কোটি টাকার নিচে নেমেছে।

জানা গেছে, গতকাল সূচক ঊর্ধ্বমুখী রাখতে আইসিবি কয়েকটি বৃহৎ মূলধনী কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছে বেশি। সকাল সাড়ে ১০টায় লেনদেনের শুরুর পর প্রথম ১৫ মিনিটে বেশিরভাগ শেয়ারের দর বাড়লে ডিএসইএক্স সূচক ৩৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫২৮৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এর পর শেয়ার বিক্রির চাপে পরের পৌনে এক ঘণ্টায় সূচকটি ওই অবস্থান থেকে ৫৭ পয়েন্ট হারিয়ে ৫২৩১ পয়েন্টে নেমে যায়। এ অবস্থায় আইসিবি বড় অঙ্কের ক্রয় আদেশ দেয়। দুপুর আড়াইটায় লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত বারবারই সূচকের পতন ঠেকাতে বিনিয়োগ করেছে আইসিবি।

জানতে চাইলে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছানাউল হক বলেন, মঙ্গলবার সাধ্য অনুযায়ী শেয়ার কিনেছে আইসিবি। আগামী সপ্তাহের দুই হাজার কোটি টাকার বন্ড বিক্রির কাজ শেষ হবে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ওই বন্ড বিক্রির টাকা আগামী সপ্তাহে পাওয়া যাবে। তা থেকে আগামী সপ্তাহেই শেয়ারবাজারে বড় বিনিয়োগে যাবে আইসিবি। অবশ্য চলতি সপ্তাহেও সাধ্য অনুযায়ী বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে।

দরপতন রুখতে করণীয় নির্ধারণে গতকাল সকালে আইসিবির প্রধান কার্যালয়ে বাজারের সব স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। বৈঠকে ডিএসই ও সিএসইর পাশাপাশি আইসিবি, মার্চেন্ট ব্যাংকারদের সংগঠন বিএমবিএ, ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএসহ শীর্ষ মার্চেন্ট ব্যাংক এবং ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ নেতা ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে শেয়ারবাজারে সংকটকালীন পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণ এবং দ্রুত নীতিগত সহায়তার বিষয়ে প্রস্তাব বা সুপারিশ জানাতে সব পক্ষের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন স্টেকহোল্ডাররা। তাছাড়া মন্দ কোম্পানিকে আইপিও প্রক্রিয়ায় মূলধন তোলার অনুমতি না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, চলমান রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় থাকলে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যেত।

বিএসইসির মুখপাত্র সাইফুর রহমান বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে না আসার যুক্তি হিসেবে কেউ কেউ ব্যাংকের এক্সপোজার (শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা) গণনা পদ্ধতি সংশোধন না হওয়ার কথা বলেছেন। সংকট মোকাবেলায় কমিটি গঠনের প্রস্তাব বিষয়ে বিএসইসির মুখপাত্র বলেন, লাগাতার দরপতনের সময়ে কী করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবতে ভাবতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আবার কে কোন উদ্যোগ নেবে, এ নিয়েও দোটানা থাকে। তাই স্টেকহোল্ডাররা এ প্রস্তাব করেছেন। তবে এ কমিটি গঠনে বিএসইসির অনুমোদন লাগবে। শিগগিরই কমিশনকে এ বিষয়ে অবহিত করা হবে।

বৈঠকে চলতি দরপতনকে সাময়িক বলে মন্তব্য করেছেন বাজার সংশ্নিষ্টরা। তারা জানান, বাজারে কিছুটা তারল্য সংকট আছে। আগামী সপ্তাহে এনবিআর চেয়ারম্যান বিদেশ সফর থেকে ফিরলে চীনা জোটের কাছে শেয়ার বিক্রির ওপর কর ছাড়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে সংস্থাটি। এ টাকা আগামী সপ্তাহ থেকে বাজারে আসবে।

Comments