Globe Securities Ltd. | Post Details
5 Mar

শেয়ার ব্যবসায় সফল হওয়ার টিপস

আপনি যদি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হয়ে থাকেন তাহলে লেখাটি পড়ে ফেলুন, কাজে লাগবে।

এই বাজারে 100% নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না। আসলে শুধু এই ব্যবসায় না কোন ব্যবসাতেই 100% লাভের  নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। এখন আপনি আমাকে বলতে পারেন যে, গ্যাম্বলার তো নিউজ বানিয়ে ঠিকই লাভ করে, যত ক্ষতি হয় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের। হ্যাঁ কথা সত্য এবং আমি তা মেনে নিলাম। তবে আমার কিছু প্রশ্ন আছে।

আমার প্রথম প্রশ্ন : গ্যাম্বলারদের লাভ  করার সুযোগটা কারা তৈরি করে দিয়েছে ? 

আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন : গ্যাম্বলাররা লাভ  করে বা প্রাতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীরা লাভ  করে কিভাবে ? 

আর আমার তৃতীয় প্রশ্ন : তারা যেহেতু লাভ  করতে পারে তাহলে আপনি পারেন না কেন ?

আমার উপরের তিনটি প্রশ্নের উত্তরই কেবল আপনার দিকেই যায় অর্থাৎ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের দিকেই যায়। উত্তরটা মেলাতে সাহায্যে করি গ্যাম্বলারদের লাভ করার সুযোগটা আপনার দ্বারাই তৈরি হয়। আপনি তাকে লাভ  দিলেই কেবল সে লাভ  করতে পারবে কেননা নিজের শেয়ার নিজে ক্রয় বিক্রয় করে তো আর লাভ করতে পারবে না। তাইনা ?

আমার দ্বিতীয় প্রশ্নটা ছিল গ্যাম্বলাররা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা লাভ  করে কিভাবে ? সহজ ভাষায় বলতে গেলে ব্যবসার লাভটা আসলে আসে ক্রয় এবং বিক্রয়ের মাধ্যমে, আপনি যে প্রাইজে ক্রয় করবেন অবশ্যই তার বেশি প্রাইজে বিক্রয় করবেন তাহলেই আপনার লাভ হবে। যেহেতু গ্যাম্বলার/প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা প্রচুর পরিমানে অর্থ বিনিয়োগ করতে পারে তাই তাদের কাছে কাজটা অনেকটা সহজ হয়ে যায় কিন্তু আপনি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী তাই আমার তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর হলো আপনার অর্থের তারল্যতার কারনে লাভ  করাটা আপনার জন্য অনেক কঠিন হয়ে পরে।

এবার আসি, তাহলে আমরা কি ব্যবসা বন্ধ করে দিবো ? নাকি সারা জীবন শুধু লস আর লস ই দিয়ে যাবো ? আক্ষেপের সুরে অসহায়ের মতো মাঝে মাঝে মনে হতে পারে আমি কি এই ব্যবসায় সফল হতে পারবো না ?

প্রশ্নগুলো যদি আপনি আমাকে করেন তাহলে উত্তরে আমি বলবো : এই ব্যবসায় সফল হওয়াটা কোন ব্যাপারই না। সবাই পারুক আর না পারুক আপনি অবশ্যই পারবেন। আপনার চেষ্টা, আপনার ইচ্ছা শক্তিই আপনাকে সফলতার দ্বারা প্রান্তে পৌছে দিতে পারে। আজকে যদি আপনি আপনার ব্যবসা বন্ধ করে দিতে চান দিতে পারেন কিন্তু তাতে লস টা আপনারই। কেননা এই ব্যবসা কখনই বন্ধ হবে না, এটা চলতেই থাকবে।এই ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে এমন নজির বা ইতিহাস পৃথিবীতে আছে বলে আমার জানা নেই। তাই ব্যবসা চলতেই থাকবে শুধু আপনি থাকবেন না যদি আপনি ব্যবসা বন্ধ করে দেন। তাই ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়াটা কোন সমাধান হতে পারে না।

এবার দ্বিতীয় প্রশ্নটাই আসি আমরা কি সারা জীবন শুধু লস আর লস ই দিয়ে যাবো। উত্তরে বলবো সেটা আপনার শিক্ষা এবং আপনার কৌশলের উপর নির্ভর করবে। আপনার যদি ব্যবসায়ীক কোন কৌশল না থাকে বা আপনার যদি এই ব্যবসা সম্পর্কে কোন ধরনের জ্ঞান না থাকে তাহলে যে ভাবে চলছে তা চলতেই থাকবে অর্থাৎ আপনি সারা জীবন লস আর লস ই দিয়ে যাবেন। তাই এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আপনাকে কৌশল অবলম্বন করতে হাবে এবং এই ব্যবসা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা হলেও থাকতে হবে। অধিকাংশ বিনিয়োগকারীরই প্রাথমিক ধারনা হয়ে যায় কিন্তু তাদের কোন ধরনের ব্যবসায়ীক কৌশল থাকে না বলে তারা বেশিরভাগ সময়ই লসের সম্মুক্ষীন হয়।

অনেক কথা বললাম এবার কৌশল নিয়ে একটু আলোচনা করব।
মূলত অনেক কৌশলে ব্যবসা করা যায় তবে কৌশলটা আপনার মূলধন এর উপর ভিত্তি করে করতে হবে। যাই হোক একজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর যেমন যদি ১,০০,০০০/= (এক লক্ষ) টাকা বিনিয়োগ হয় তাহলে কেমন কৌশল অবলম্বন করতে পারেন তার কিছুটা আলোকপাত করার চেষ্টা করবো।

কৌশল তৈরির আগে আমাদের জানতে হবে আমাদের ভুলগুলো কোথায় কেননা আপনি যদি আপনার ভূলগুলো না বুঝতে পারেন তাহলে তা সংশোধন করবেন কিভাবে ? তাই নিচের ভুলগুলো আপনার মাঝে আছে কিনা তা একটু মিলিয়ে নিন। যদি থাকে তাহলে সাথেই থাকুন সমাধান বের করতে পারবো ইন-শা-আল্লাহ্‌।

  1. আপনি খুবই অধৈর্য্য। শেয়ার কেনার পর আর ধৈর্য্য ধরতে পারেন না ।
  2. আপনার অজান্তেই আপনার মাঝে ধারনা তৈরি হয়েছে যে আপনি শেয়ার কিনলেই তা কমে আর বেচলেই তা বাড়ে।
  3. আপনি অধিকাংশ সময়ই অন্যের কথায় প্রভাবিত হয়ে শেয়ার কেনা বেচা করে থাকেন ।
  4. আপানার লাভের তুলনায় লসের পাল্লাটাই ভারি।
  5. শেয়ার কখন বাড়বে বা কমবে তা আপনি বুঝতে পারেন না। যার ফলে অধিকাংশ সময়ই আপনার সিদ্ধান্ত ভূল হয়।
  6. আপনার যখন মনে হয় মার্কেট বাড়বে কিন্তু তখন বাড়ে না। আবার যখন মনে হয় কমবে তখন মার্কেট কমে না।
  7. যখন মার্কেট বাড়তে থাকে তখন আপনার মনে তা আরও বাড়বে আবার যখন মার্কেট কমে তখন আপনার মনে হয় তা আরও কমবে।
  8. প্রাথমিক অবস্থায় অল্প লসটা মেনে নিতে আপনার অনেক কষ্ট হয় কিন্তু দীর্ঘ সময় পরে আপনি বেশি লসটাও মেনে নেন।

এছাড়াও আরও অনেক ভুল থাকতে পারে কিন্তু আমি আপাতত এই ভূলগুলোর কিভাবে সংশোধন করা যায় তা বলার চেষ্টা করবো আশা করি এতেই আপনি আপনার প্রাথমিক সফলাতাটুকুকে ধরতে পারবেন।

আমি আপনাকে খুব বেশী ধৈর্য্য শীল বলবো না কেননা ধৈর্য্য ধরতে হবে তা তো সবাই জানেই কিন্তু পাকৃতিক ভাবে ধৈর্য্য ধারন করার ক্ষমতা সবার মাঝে থাকে না। যাই হোক তাহলে আপনি কি করবেন ? আপনার প্রথম কাজটি হলো আপনার হিসাব বছর বা মাস নির্ধারন করা। ধরে নিন আপনি একটি ব্যবসায় নেমেছেন ব্যবসায় নামা মাত্রই আপনি বড়লোক হয়ে যাবেন এমন চিন্তা থেকে বেড় হয়ে আসেন। নির্ধারন করেন আপনি কত মাসের মধ্যে কতটাকা আয় করতে চান। আশাপাশের চিত্র বা অন্য বিনিয়োগকারীদের দেখে মনে হতে পারে তারা হয়তো অল্প কিছুদিনের মাঝে কোটি পতি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু আপনি পাড়ছেন না তাই আশাপাশের লোকজন কত লাভ  করলো বা লস খেল তা না দেখে আপনার ব্যবসার প্রতি মনোযোগী হোন।

প্রাথমিক ভাবে আপনাকে যা করতে হবে তা হলো আপনার মূলধনটাকে কয়েকটা ভাগে ভাগ করে নিতে হবে। এবং অবশ্যই সম্পূর্ণ টাকা একটি শেয়ারে একবারে বিনিয়োগ করা থকে বিরত থাকতে হবে। বেশিরভাগ মানুষ ক্ষতির সম্মুক্ষীন হয় তার করন এই বাজারে এক প্রকার এলার্জি আছে যেমন শেয়ার কেনা বেচা না করতে পারলে গা চুলকায়।তাই এই এলার্জির ঔষধ হলো সব টাকা একবারে একটি শেয়ারে বিনিয়োগ না করে প্রতিদিন অল্প অল্প করে বিনিয়োগ করা এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা।তাই আপনার ব্যবসায় লাভ লস নির্ধারনের জন্য অবশ্যই একটি সময় নির্ধারন করতে হবে এবং তা অবশ্যই মাস বা বছর করে নিতে হবে কেননা আপনি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী হিসাবে প্রতিদিন লাভ  করবেন তা আপনার ভূল কল্পনা। যা বস্তব নয়। আর যতখন পর্যন্ত আপনি বস্তবতাকে মেনে নিতে না পারবেন ততখন পর্যন্ত আপনি সফল হতে পারবেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। জেনে রাখা ভালো যে, বেশিরভাগ লোকই আজ পর্যন্ত পারে নাই।

তাই কিভাবে এলার্জি দূর করে ব্যবসা করবেন বা কি ধরনের পদ্ধত্বি অবলম্বন করবেন তার একটি বাস্তবিক হিসাব আগামী পর্বে দেওয়ার চেষ্টা করবো।

ক্রেডিটঃ সামিউল হক শাওন 

Comments